মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের - মূখ্যমন্ত্রী হিসাবে এক মাসের কাজের খতিয়ান।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন অধ্যায়: মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী মহাশয়ের প্রথম মাসের কর্মযজ্ঞ
গোল্ডেন ওয়েব টুলস
ভূমিকা: এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
২০২৬ সালের ৯ই মে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসমুদ্রের সামনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রী সুবেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ। বিজেপি-শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। 'জয় শ্রী রাম' ও 'বন্দে মাতরম' ধ্বনিতে মুখরিত ব্রিগেড ময়দান বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী তাঁর প্রশাসনের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে দেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আমি সকল দলের ও সকল মানুষের মুখ্যমন্ত্রী" এবং "ভাল শাসন, নিরাপত্তা ও দ্বৈত-ইঞ্জিন সরকার"-এর মাধ্যমে বাংলাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নিচে তাঁর সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
কর্ম-কাণ্ড ১: সীমান্ত সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিন পর, ১১ই মে লেখক ভবনে ডাকা প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলির একটি গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় যে কোনো প্রকার বাধা অপসারণ করা হবে। তাঁর নির্দেশ ছিল—বিএসএফ-কে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
পূর্ববর্তী সরকার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী সেই নীতি থেকে স্পষ্ট বিরতি দেন। তিনি "শনাক্ত করো, মুছে ফেলো, প্রত্যর্পণ করো" (Detect, Delete, Deport)-এর কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। এই নীতির আওতায়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যের জেলে না রেখে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে তারা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, "বাংলার সীমান্ত ভারতের সীমান্ত—এখানে কোনো আপস নয়। জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার।" এই পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কমবে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্ম-কাণ্ড ২: আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
স্বাস্থ্যসেবা ছিল মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PMJAY) প্রকল্পটি রাজ্যে বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর ফলে বাংলার লক্ষাধিক দরিদ্র পরিবার বার্ষিক ₹৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই এই প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের আওতায় আসবে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, প্রধানমন্ত্রী আওয়াস যোজনা (গ্রামীণ)-সহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এই প্রকল্পগুলি পূর্ববর্তী সরকার কর্তৃক উপেক্ষিত ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, "স্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ। বাংলার প্রতিটি নাগরিকের উন্নত চিকিৎসার অধিকার রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকার এই অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, আমরা তা ফিরিয়ে দিচ্ছি।" এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে কেন্দ্রীয় সহায়তা বাড়বে এবং দরিদ্র রোগীদের আর্থিক সঙ্কট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়।
কর্ম-কাণ্ড ৩: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা—নারী কল্যাণে নতুন দিগন্ত
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী নারী কল্যাণকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি বিতর্কিত ছিল এবং জালিয়াতি, অপব্যবহারের অভিযোগে জর্জরিত ছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পটিকে সংস্কার করে একটি নতুন নাম ও নতুন রূপ দেন—অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা।
এই নতুন প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি যোগ্য মহিলাকে মাসে ₹৩,০০০ টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় ₹১,০০০ টাকা বেশি এবং আগের প্রকল্পের জালিয়াতি রোধে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন এবং কোনো অনধিকার ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না।
২০২৬ সালের ১লা জুলাই থেকে প্রথম কিস্তি দেওয়া শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যব্যাপী প্রায় ১.০৫ কোটির বেশি আবেদনপত্র যাচাই করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, "মায়েদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলার নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করবে।" পাশাপাশি, পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রায় ৩০ লক্ষ জাল ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট থাকার অভিযোগ তুলে, এই মামলার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
কর্ম-কাণ্ড ৪: মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস ভ্রমণ
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী ২০২৬ সালের ১লা জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা চালু করেন। এই সিদ্ধান্তটি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল। ঘোষণা অনুযায়ী, পাহাড়ের দার্জিলিং থেকে সুন্দরবনের মাঠ পর্যন্ত—রাজ্যের সর্বত্র সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, কারণ অনেক মহিলাই পরিবহণ খরচের কারণে দূরবর্তী স্থানে কাজ বা পড়াশোনা করতে পারছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মহিলাদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও স্বাধীন চলাচলের অধিকার আমরা নিশ্চিত করছি। এই এক পদক্ষেপ লক্ষ লক্ষ মা-বোনের জীবনকে সহজ করবে।"
ভবিষ্যতে অপব্যবহার রোধে স্মার্ট কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পটির সাফল্যের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি বাসগুলিতেও এই সুবিধা সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে।
কর্ম-কাণ্ড ৫: দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী তাঁর শপথগ্রহণের পর থেকেই স্পষ্ট ঘোষণা দেন—"কাটমানি, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা" থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে "পুলিশ স্টেশন পার্টি অফিসে এবং পঞ্চায়েত অফিস কাটমানি সংগ্রহের কেন্দ্রে" পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজ্যে "শাসকের আইন" না হয়ে "আইনের শাসন" প্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রথম মাসেই তিনি তাঁর কথার বাস্তব প্রমাণ দেন:
- আরজি কর মেডিকেল কলেজ কাণ্ডে তিনজন আইপিএস অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়।
- পূর্ববর্তী সরকারের সময় আটকে রাখা চারটি সিবিআই তদন্ত পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- রাজনৈতিক হিংসায় মৃত ৩২১ বিজেপি কর্মীর পরিবারকে পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড বিলুপ্ত করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলার মাটি থেকে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি উঠিয়ে দেবো, এ আমার প্রতিজ্ঞা। যারা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেছে, তাদের জবাব দিতেই হবে।" এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্ম-কাণ্ড ৬: প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ আমলাদের নিয়োগ দিয়েছেন:
- মনোজ কুমার অগরওয়াল (১৯৮৯-ব্যাচের আইএএস অফিসার)-কে মুখ্যসচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন এবং তাঁর সততা ও দক্ষতার জন্য পরিচিত।
- সুব্রত গুপ্ত (১৯৯০-ব্যাচের আইএএস অফিসার)-কে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ রোল অবজারভার হিসেবে ভুয়া ভোটার শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে, নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় সল্টলেকের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে। এই কর্মসূচিতে মন্ত্রীদের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাজের মৌলিক বিষয়গুলি শেখানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন—"ফাইল পড়ো, বুঝো, কিন্তু সিদ্ধান্তে বিলম্ব করো না।"
তিনি সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেন এবং আমলাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর প্রশাসনিক দর্শন হলো—"আমলাতন্ত্র জনগণের সেবক, কর্তা নয়।"
কর্ম-কাণ্ড ৭: শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজ্যের আর্থিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি হলো শিল্পায়ন। প্রথম মাসেই তিনি বড় বড় শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক করেন এবং বিনিয়োগ আহ্বান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপসমূহ:
- লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-এর চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যমের সাথে সাক্ষাৎ করে শিল্প পুনরুজ্জীবন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন।
- রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে বৈঠকে উত্তর ও দক্ষিণ বাংলায় রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের অনুমোদন পান, যা হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক প্যাকেজ:
- পূর্ববর্তী সরকারের সময় আটকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ₹৩৯,০০০ কোটি টাকা অর্থনৈতিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।
- বিকসিত ভারত - গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G RAM G) প্রকল্পের আওতায় রাজ্যকে ₹৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে (পূর্ববর্তী ১০০ দিনের MGNREGA-এর পরিবর্তে)।
- গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পের জন্য ₹২,৪০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, "বাংলা আবার শিল্পের স্বর্গরাজ্য হবে। আমরা বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করব, লাল ফিতার বেড়াজাল দূর করব।" তিনি সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো ভুল অতীত এড়িয়ে সম্মতিমূলক ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে শিল্পায়নের কথা বলেছেন।
কর্ম-কাণ্ড ৮: জনকল্যাণ শিবির—সরকারি পরিষেবা জনতার দোরগোড়ায়
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
বিস্তারিত বিবরণ:
মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীর সবচেয়ে প্রশংসিত উদ্যোগগুলির মধ্যে একটি হলো "জনকল্যাণ শিবির"। ২০২৬ সালের ১৫-১৭ই জুন রাজ্যব্যাপী ১,১০০টি স্থানে এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হয়। এই শিবিরগুলির মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি পরিষেবাগুলিকে জনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আটকে থাকা বা অবহেলিত প্রকল্পগুলির আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা।
শিবিরগুলিতে যা ছিল:
- ৫৪টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ
- নথিপত্র যাচাই ও প্রত্যয়ন
- অভিযোগ দায়ের ও তার সমাধানের ব্যবস্থা
- অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম-কিসান, বিধবা ও বয়স্ক পেনশন-সহ সব প্রকল্পের জন্য একক প্ল্যাটফর্ম
এই শিবিরগুলি পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একাধিক জেলার শিবির পরিদর্শন করেন এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নির্দেশ দেন, "কোনো যোগ্য সুবিধাভোগী যেন বঞ্চিত না হন এবং কোনো অনধিকার ব্যক্তি যেন সুবিধা না পান।"
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রকল্পগুলিতে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতি ছিল এবং তিনি নিশ্চিত করতে চান যে সুবিধা "প্রকৃত ও যোগ্য" সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুমান।
উপসংহার: একটি নতুন বাংলার স্বপ্ন
⬇️ ছবি এখানে দেখা যাবে
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সুবেন্দু অধিকারী মহাশয়ের প্রথম মাসের কর্মযজ্ঞ একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—বাংলা এখন বদলাচ্ছে, উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। তাঁর প্রশাসন পূর্ববর্তী সরকারের নীতি থেকে স্পষ্ট বিরতি নিয়ে সুশাসন, নিরাপত্তা, নারীকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিল্পায়ন ও দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপে গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি তাঁর ভাষণে বারবার বলেছেন, "বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে বদল চেয়েছেন, আমরা সেই বদল আনব।" তাঁর প্রশাসনিক দর্শনকে "ভয়মুক্ত শাসন" ও "দ্বৈত-ইঞ্জিন সরকার"-এর মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
যদিও মাত্র এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, ইতিমধ্যেই তাঁর সরকারের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সামনের দিনগুলিতে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও নতুন প্রকল্প ঘোষণার মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।