ADS

চোখের রোগ ও তার ঘরোয়া প্রতিকারের চার টি উপায়

চোখ ও তার ঘরোয়া চিকিৎসা | গোল্ডেন ওয়েব টুলস

👁️ চোখ ও তার ঘরোয়া চিকিৎসা

গোল্ডেন ওয়েব টুলস
সুস্থ চোখের জন্য প্রাকৃতিক উপায়
মায়োপিয়া
মায়োপিয়া (ক্ষীন দৃষ্টি)
কাছের জিনিস পরিষ্কার দেখালেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়। চোখের গোলক লম্বা হওয়া বা কর্নিয়া বেশি বাঁকা থাকার কারণে আলো রেটিনার সামনে ফোকাস করে।
হাইপারমেট্রোপিয়া
হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরদৃষ্টি)
দূরের জিনিস পরিষ্কার দেখলেও কাছের জিনিস ঝাপসা লাগে। চোখের গোলক ছোট হলে বা কর্নিয়ার বক্রতা কম হলে আলো রেটিনার পিছনে ফোকাস করে।
অ্যাস্টিগম্যাটিজম
অ্যাস্টিগম্যাটিজম (এক নজর)
কর্নিয়া বা লেন্সের বক্রতা অনিয়মিত হওয়ার কারণে যেকোনো দূরত্বের জিনিসই ঝাপসা বা দ্বি-দ্বি মনে হয়। আলো রেটিনায় একাধিক বিন্দুতে ফোকাস করে।
প্রেসবায়োপিয়া
প্রেসবায়োপিয়া (চশমা)
বয়সের সঙ্গে চোখের লেন্সের নমনীয়তা কমে যায়, ফলে কাছের জিনিস (বই, মোবাইল) ঝাপসা লাগে। ৪০-৪৫ বছর বয়সে সাধারণত শুরু হয়।
কনজাংটিভাইটিস
কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা)
চোখের সাদা অংশ ও পাতার ভেতরের আবরণের প্রদাহ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জিতে হয়। চোখ লাল, চুলকানি, পানি পড়া ও জ্বালা করে।
ব্লেফারাইটিস
ব্লেফারাইটিস (চোখের পাতার প্রদাহ)
চোখের পাতার প্রান্ত লাল হয়ে ফুলে যায়, খুশকি জমে, চুলকায় ও জ্বালা করে। তেল গ্রন্থির সমস্যা বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হয়।
স্টাই বা আঞ্জনি
স্টাই বা আঞ্জনি
চোখের পাতার গ্রন্থিতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ছোট, লাল ও ব্যথাদায়ক ফোঁড়া হয়। ফোলা ও পুঁজ জমতে পারে।
ড্রাই আই সিনড্রোম
ড্রাই আই সিনড্রোম
চোখের অশ্রুপানি শুকিয়ে গেলে বা মান খারাপ হলে চোখ শুষ্ক, জ্বালা-পোড়া, লাল ও ঝাপসা লাগে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে বাড়ে।
ছানি
ছানি (Cataract)
চোখের প্রাকৃতিক লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঝাপসা হয়, আলোর ঝলকানি লাগে, রাতে দেখতে অসুবিধা হয়। বয়সজনিত প্রধান কারণ।
গ্লুকোমা
গ্লুকোমা (কালো পানি)
চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নীরবে দৃষ্টি কমায়, অনেক সময় ব্যথা নেই। প্রাথমিক ধরা না পড়লে অন্ধত্ব হতে পারে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
ডায়াবেটিসের কারণে রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টি ঝাপসা, ভাসতে থাকা দাগ, রক্তক্ষরণ হতে পারে। অন্ধত্বের অন্যতম কারণ।
ম্যাকুলার ডিজেনারেশন
ম্যাকুলার ডিজেনারেশন
রেটিনার মাঝখানের অংশ (ম্যাকুলা) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বয়স্কদের বেশি হয়। মুখ চেনা, পড়া ও সূক্ষ্ম কাজে অসুবিধা হয়।
🌿 ঘরোয়া প্রতিকার ও চোখ ভালো রাখার পথ

🥕 ১. গাজর ও ধনে পাতার রস

প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস গাজর ও ধনে পাতার রস চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গাজরে প্রচুর ভিটামিন এ, বিটা-ক্যারোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা রেটিনার কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ধনে পাতা চোখের সংক্রমণ রোধ করে এবং চোখের ভেতরের প্রদাহ কমায়। রস বানাতে ৪-৫টি গাজর ও এক মুঠো ধনে পাতা একসাথে জুস করে নিন। চিনি ছাড়া পান করাই শ্রেয়। নিয়মিত পান করলে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ হয় এবং দৃষ্টিক্ষীণতা কমে।

🌰 ২. কাঠ বাদাম ও কালো কিসমিস (তামার পাত্রে)

রাতে ৫টি কাঠ বাদাম ও ১৫টি কালো কিসমিস এক গ্লাস জলে (তামার পাত্রে ভিজালে সবচেয়ে ভাল) ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে বাদাম ও কিসমিস চিবিয়ে খান এবং সেই পানি পান করুন। তামার পাত্রে রেখে ভিজালে তামার অণুপাত অল্প মাত্রায় জলে মিশে, যা চোখের স্নায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষা করে। কাঠবাদামে ওমেগা-৩ ও ভিটামিন ই আছে, কিসমিসে আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি চোখের পেশি শক্তিশালী করে এবং ছানি পড়া ধীর করে।

🌱 ৩. ত্রিফলা জল (আমলকি-রয়রা-হরতকি)

ত্রিফলা আয়ুর্বেদের অমৃত সমান। রাতে এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ এক গ্লাস জলে (মাটির বা কাঁসার পাত্রে) ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ওই জল ছেঁকে শুধু জল খালি পেটে পান করুন (পানীয় জল, ত্রিফলা খাবেন না)। ত্রিফলা চোখের মণির জ্যোতি বাড়ায়, রেটিনার কোষ পুনরুজ্জীবিত করে এবং অশ্রুনালী পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত সেবনে চোখের লালভাব, চুলকানি ও চোখ ওঠা কমে। গ্লুকোমা রোগীদের জন্যও উপকারী।

🍵 ৪. মেথি ও মৌরি ভেজানো পানি (পিতলের পাত্র)

মেথি ও মৌরি চোখের জন্য টনিক। রাতে ১ চা চামচ মেথি ও ১ চা চামচ মৌরি এক গ্লাস জলে (পিতলের পাত্রে ভিজালে অতি উত্তম) ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছেঁকে সেই পানি খালি পেটে পান করুন। পিতলের পাত্র জলকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল করে এবং মেথি ও মৌরির ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস চোখের ড্রাইনেস দূর করে, চোখের পাতার প্রদাহ কমায় ও চোখের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে। যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন তাদের জন্য খুবই কার্যকর।

উপরিউক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি আপনার চোখকে রোগমুক্ত রাখুন। এর নিয়মিত অভ্যাসের ফলে চশমা পড়া লোকেরও আর চশমা পরার দরকার হয় না (প্রাথমিক ও মৃদু সমস্যার ক্ষেত্রে)। উপকার পেলে অন্যকেও জানান। তবে আপনার কোন জটিল রোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
⚕️ সতর্কবার্তা: এই পরামর্শগুলি ঘরোয়া টোটকা ও আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি। চোখের যেকোনো জটিল সমস্যা যেমন গ্লুকোমা, ছানি বা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ADS