মহাভারতের সূচনা
মহাভারত হল একটি প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম কবিতা এবং হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থগুলির মধ্যে একটি। এই মহাকাব্যটি ব্যাসদেব রচনা করেছিলেন।
মহাভারত হল একটি প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম কবিতা এবং হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থগুলির মধ্যে একটি। এই মহাকাব্যটি ব্যাসদেব রচনা করেছিলেন।
মহাভারতের কাহিনী হস্তিনাপুর রাজ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই রাজ্যে শান্তনু রাজা শাসন করতেন। তাঁর পুত্র ছিলেন ভীষ্ম, যিনি আজীবন ব্রহ্মচর্যের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন।
শান্তনুর পরে বিচিত্রবীর্য হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসেন। তাঁর দুই পুত্র ছিলেন ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ হওয়ায় পাণ্ডু রাজা হন।
পাণ্ডুর পাঁচ পুত্র ছিলেন - যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব। তারা পাঁচ ভাই একত্রে পাণ্ডব নামে পরিচিত। তারা সকলেই অসাধারণ যোদ্ধা ও গুণী ছিলেন।
ধৃতরাষ্ট্রের একশো পুত্র ছিল, যারা কৌরব নামে পরিচিত। তাদের মধ্যে দুর্যোধন ছিলেন জ্যেষ্ঠ। কৌরবরা পাণ্ডবদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত এবং তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল।
দ্রৌপদীর স্বয়ম্বর সভায় অর্জুন লক্ষ্যভেদ করে দ্রৌপদীকে জয় করেন। কিন্তু কুন্তীর ভুল বোঝার কারণে দ্রৌপদী পাঁচ পাণ্ডবেরই স্ত্রী হন।
ধৃতরাষ্ট্র পাণ্ডবদের জন্য ইন্দ্রপ্রস্থ নামে একটি নতুন রাজ্য তৈরি করে দেন। পাণ্ডবরা সেখানে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাজ্য গড়ে তোলেন।
শকুনির পরামর্শে দুর্যোধন পাণ্ডবদের পাশা খেলায় আমন্ত্রণ জানান। এই খেলায় যুধিষ্ঠির তাঁর রাজ্য, ভাই এবং স্ত্রী দ্রৌপদীকেও হারান।
পাশা খেলায় পরাজিত হয়ে পাণ্ডবদের বারো বছর বনবাস এবং এক বছর অজ্ঞাতবাসে কাটাতে হয়। তারা এই সময়ে অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের সম্মুখীন হন।
বনবাস শেষে যখন পাণ্ডবরা তাদের রাজ্য ফিরে চান, দুর্যোধন তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে ভয়ানক কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, অর্জুন যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে ভগবদ্গীতা জ্ঞান দেন। এটি হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র গ্রন্থ।
ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম, ধর্ম ও জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়েছেন। এটি মানব জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন।
মহাভারতের প্রধান যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রের মাঠে শুরু হয়। এই যুদ্ধে দুই পক্ষই তাদের সমস্ত শক্তি নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
ভীষ্ম কৌরব বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি শরশয্যায় শায়িত হওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল ছিল। তিনি যুদ্ধের দশম দিনে পতিত হন।
দ্রোণাচার্য ছিলেন পাণ্ডব ও কৌরবদের গুরু। তিনি যুদ্ধে কৌরব পক্ষের সেনাপতি ছিলেন এবং অসাধারণ যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করেছিলেন।
অভিমন্যু, অর্জুন ও সুভদ্রার পুত্র, চক্রব্যূহ ভেদ করতে জানতেন কিন্তু বের হতে জানতেন না। তিনি যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
কৌরবরা অভিমন্যুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে, যা যুদ্ধের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এই ঘটনা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেয়।
কর্ণ ছিলেন কুন্তীর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং পাণ্ডবদের জ্যেষ্ঠ ভাই। তিনি যুদ্ধে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং কৌরব পক্ষের প্রধান যোদ্ধা ছিলেন।
কর্ণ ও অর্জুনের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে কর্ণ তাঁর সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।
যুদ্ধের শেষ দিনে, ভীম দুর্যোধনের ঊরু ভেঙে তাঁকে পরাজিত করেন। মৃত্যুর আগে দুর্যোধন শ্রীকৃষ্ণকে অভিশাপ দেন যে যাদব বংশ ধ্বংস হবে।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবরা বিজয়ী হন। কিন্তু তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুতে তাদের বিজয় তিক্ত হয়ে ওঠে। যুধিষ্ঠির হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসেন।
দ্রোণের পুত্র অশ্বথামা রাতে শিবিরে প্রবেশ করে পাণ্ডবদের পুত্রদের হত্যা করে প্রতিশোধ নেন। এটি যুদ্ধের একটি করুণ অধ্যায়।
শরশয্যায় শায়িত ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে রাজধর্ম, জীবন ও সমাজ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করেন। এটি মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুদ্ধের পর যুধিষ্ঠির হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসেন এবং ধর্মরাজ হিসেবে পরিচিত হন। তিনি ন্যায় ও সত্যের সাথে রাজ্য শাসন করেন।
জীবনের শেষ পর্যায়ে পাণ্ডবরা ও দ্রৌপদী হিমালয়ের দিকে স্বর্গারোহণের যাত্রা শুরু করেন। পথে একে একে সকলে পতিত হন।
যুধিষ্ঠির একমাত্র জীবিত হিসেবে স্বর্গে পৌঁছান। সেখানে তিনি তাঁর ভাই ও শত্রুদের দেখে বিস্মিত হন এবং নরক দর্শন করেন।
মহাভারত আমাদের শিক্ষা দেয় যে সত্য ও ধর্মের পথে চলা উচিত। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যে চিরন্তন সংঘর্ষের গল্প।
মহাভারতের মূল বার্তা হল - যেখানে ধর্ম আছে, সেখানে জয় আছে। সত্য ও ন্যায় সর্বদা বিজয়ী হয়।
মহাভারত আমাদের শিক্ষা দেয় যে পরিবারের মধ্যে ঐক্য ও ভালোবাসা非常重要। বিভেদ ও ঈর্ষা ধ্বংসের কারণ হয়।
মহাভারত আজও প্রাসঙ্গিক কারণ এটি মানব জীবনের বিভিন্ন দিক ও সমস্যার সমাধান প্রদান করে।
ভীষ্ম তাঁর পিতার সুখের জন্য আজীবন ব্রহ্মচর্যের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। এটি তাঁর মহান ত্যাগের উদাহরণ।
একলব্য দ্রোণাচার্যের শিষ্য হতে না পেরেও নিজ的努力ে মহান ধনুর্বিদ হয়ে ওঠেন এবং গুরুদক্ষিণা হিসেবে নিজের আঙুল কেটে দেন।
কর্ণ তাঁর জীবনে কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরাননি। তাঁর দানশীলতা ও মহানুভবতার জন্য তিনি দানবীর হিসেবে পরিচিত।
অর্জুন ছিলেন একজন মহান ধনুর্বিদ। তাঁর অস্ত্রচালনা ও যুদ্ধকৌশলে তিনি অদ্বিতীয় ছিলেন।
ভীম ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাঁর গদাযুদ্ধে অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তিনি অনেক শক্তিশালী শত্রুকে পরাজিত করেছিলেন।
যুধিষ্ঠির তাঁর সত্যবাদিতা ও ধর্মপরায়ণতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না।
নকুল ও সহদেব যমজ ভাই ছিলেন। নকুল ছিলেন অশ্বচালনায় দক্ষ এবং সহদেব ছিলেন জ্যোতিষশাস্ত্রে পণ্ডিত।
দ্রৌপদী ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও বুদ্ধিমতি। তিনি অপমানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁর অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণ শান্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু যখন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠল, তিনি পাণ্ডবদের পক্ষে থেকে তাদের বিজয়ী হতে সাহায্য করেছিলেন।
মহাভারত আমাদের শিক্ষা দেয় যে সত্য, ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলা উচিত। এটি মানব জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন ও নির্দেশিকা।
As you came here, so you must go. So don't delay, do the main thing, many real genes will know or understand.